অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপমেন্ট কমপ্লিট গাইডলাইন এপ ডেভেলাপমেন্টের হাতেখড়ি | Techtunes


স্বাগতম।

আমার করা অন্যসব টিউনের থেকে এই টিউনটি অনেক আলাদা। টিউনের প্রথমেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। টিউনটি লিখা নিয়ে একটা গল্প তৈরী হয়েছে। কোনএকদিন সেটা বলব আজকে নয়।

টিউটোরিয়াল ঘরানার টিউন আমি আগেও করেছি কিন্তু এত বিস্তারিত টিউন আমার জীবনেও করিনি। আমি নিজে এখন পর্যন্ত এত বর্ণণা সমৃদ্ধ কোন টিউন বা টিউন নিজে দেখিও নি। আপনারা হয়ত দেখে থাকবেন। থাকলে আমাকে একটু টিউমেন্ট করে জানিয়ে দিয়েন।

হয়ত ভাবতেছেন এত কথা কেনো?

ভাই টিউনটা পড়া শুরু করলেই বুঝবেন। এই টিউনের ভেতরে আমি কোন বাইরের কথা বলি নি। আসলে বলতে পারি নি। টিউনটা যতটা পারা যায় ছোট করার চেষ্টা করতে গিয়েও দেখেন কি অবস্থা! টিউন শেষ করার পর দেখলাম আমি সম্পুর্ণ টিউনে কোন বাড়তি কথাই বলিনি! বেশি মাত্রায় প্রফেশনালিজম আবার ভাল না তাই টিউনের শেষে উপরের এই অংশটুকু লিখলাম। কথা না বাড়াই।

অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপমেন্ট হল আমাদের আজকের টিউনের বিষয়। অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপিং এর মোটামোটি মানের এ টু জেড গাইডলাইন নিয়ে আজকে টিউন। তো চলুন শুরু করা যাক।

অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপমেন্ট কি?

http://www.techtunes.com.bd/

অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপিং এর রাস্তা দুটি। প্রথমটি হল, শুরু থেকে শুরু করা। অর্থাৎ কোডিং করে এপ তৈরী করা। যেটা করার জন্য অবশ্যই জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। আর এই জাভা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। একাডেমিক পড়াশোনাও অনেক সময় দরকার পরে। কিন্তু কেউ যদি দীর্ঘসময়ে না গিয়ে এখনই এপ ডেভেলাপিং করা শুরু করে দিতে চায়! তার জন্য হল দ্বিতীয় পদ্ধতিটি। যেটি হল অনেকটা কৈ এর তেলে কৈ ভাজার মত।

অর্থাৎ এপ দিয়ে বা এপ থেকে অথবা সফটওয়্যার থেকে নতুন কোন এপ ডেভেলাপ করা। যেটাকে বলা হচ্ছে point-and-click এপ বিল্ডিং মেথড (অবশ্যই প্রচলিত web2apk বা প্রচলিত অ্যান্ড্রয়েড এপ থেকে এপ তৈরী না)। প্রফেশনাল এবং ইনোভেটিভ এপ তৈরী করার জন্য আছে MIT এর App Inventor যার সাহায্যে ভিজ্যুয়াল এপ তৈরি করা সম্ভব। এই প্লাটফর্মে জাভা জ্ঞান না থাকলেও এপ তৈরী করা সম্ভব। আর জাভা সম্পর্কে ধারণা থাকলে তো কথাই নেই।

আমরা একটা সিম্পল Scratchpad(স্ক্র্যাচপ্যাড) এপ তৈরী করতে করতে এপ ডেভেলাপিং এর সাথে পরিচিত হবো। স্ক্র্যাচপ্যাড এপ হল এমন ধরনের এপ যেটি এর ভেতরে লেখা সব টেক্সট সেভ করে রাখবে। প্রথমে App Inventor এ এপ তৈরী করে সেটা টেস্ট করব। ঠিকঠাক ভাবে চললে আমরা আরেকটু হাই-লেভেলের এপ তৈরীর দিকে যাবো, তখন আমরা এক ধরনের ‘নোটপ্যাড’ তৈরি করব। আর এটা করার জন্য আমরা জাভা ব্যবহার করব এবং আমাদের ব্যবহার করতে হবে ‘Android Studio’ নামের সফটওয়্যারটি।

আপনি তৈরী?  চলুন শুরু করা যাক।

কেন অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপিং?

http://www.techtunes.com.bd/

এটা একটা খুবই সাধারণ প্রশ্ন। এপ ডেভেলাপিং শুরু করার আগে আসুন ভেবে নেই কেন আমরা এপ ডেভেলাপিং করব বা করতে চাই।

*প্রয়োজন : বলা হয়ে থাকে ‘প্রয়োজনই আবিষ্কারের মা’। অর্থাৎ প্রয়োজন থেকেই মানুষ কিছু তৈরি করে থাকে। হতে পারে আপনার কোন এক ধরনের এপ দরকার, প্লেস্টোর সার্চ করলেন, ইন্টারনেটে খোঁজ নিলেন কিন্তু মনের চাহিদামত এপ পেলেন না কোথাও। তখনই আপনার এপ ডেভেলাপিং করা দরকার নিজের জন্য এবং আপনার মত এমন হাজারো মানুষের জন্য যারা এই একই সমস্যায় আছে।

*কমিউনিটি : প্রয়োজনীয় কোন এপ ডেভেলাপ করা এবং মুক্ত সফটওয়্যার(ওপেন সোর্স) হিসেবে সেটা সবার ব্যবহারের জন্য দিয়ে দেওয়া বিশ্বের প্রোগ্রামিং কমিউনিটি এবং অ্যান্ড্রয়েড প্রোগ্রামিং কমিউনিটির সাথে কাজ করার জন্য একটি খুব কার্যকরি উপায়। এ ধরনের ওপেন সোর্স ছাড়া পৃথিবীর অনেক সফটওয়্যারেরই কোন অস্তিত্ব থাকত না। এমনকি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স এর অস্তিত্বও কল্পনা করা সম্ভব হত না। আর লিনাক্স না থাকলে এন্দ্রয়েডও থাকত না! আর তাই পৃথিবীর সফটওয়্যার মার্কেটে ওপেন সোর্স বা মুক্ত সফটওয়্যার এর গুরুত্ব অনেক। আর এমন কোন একটা এপ বা সফটওয়্যার ডিজাইন করে অর্জন করা সম্ভব প্রায় সবকিছু।

*স্কিল ডেভেলাপমেন্ট : প্রোগ্রামিং এর ছাত্র কোন ব্যক্তি যত বেশি প্রোগ্রাম করে তার স্কিল বা দক্ষতা ততই বৃদ্ধি পায়। আর কোন একটি প্লাটফর্মের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল টেস্ট করা। প্রোগ্রাম লিখে টেস্ট করা। আর তাই নিজের ইচ্ছামত এপ ডেভেলাপ করার ফল সবসময়ই ভালই হয়।

*আয় : শখের বশে কেউ একটা এপ ডেভেলাপ করার পর সেটা যদি মানুষ গ্রহণ করে এবং ব্যবহার করে তাহলে সেখান থেকে টাকা আয় সম্ভব। প্রথমত টাকার বিনিময়ে সেই এপ বিক্রি করে আবার সেটা যদি মুক্ত সফটওয়্যার হয় তাহলেও এডভারটাইজিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করা সম্ভব।

http://www.techtunes.com.bd/

কারণ যেটাই হোক না কেন এপ ডেভেলাপিং যদি আপনার নেশা না হয় তাহলে না করাই ভাল হবে। আর নেশার এপ ডেভেলাপিং এ আর কিছু না হোক অন্তত স্কিল ডেভেলাপ এবং নিজের সন্তুষ্টি হবেই।

এপ ডেভেলাপিং এর রাস্তা

কোডিং, ইন্টারফেস ডিজাইনিং সহ আরো অনেক কাজ করে একটি এপ তৈরী করা হয় কিন্তু দিনশেষে এপ ডেভেলাপিং এর রাস্তা মূলত দুইটি।

পয়েন্ট এন্ড ক্লিক অ্যাপস

এপ ডেভেলাপিং এ যদি আপনি নিউবি হয়ে থাকেন, কোন অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে তাহলে এই পদ্ধতি আপনার জন্য। মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরী করার মতই সহজ এই পদ্ধতিতে এপ তৈরী করা। কোন কোডিং ছাড়াই শুধুমাত্র গ্রাফিক্যাল প্রজেকশনের মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে এপ তৈরী করা যায়।

 http://www.techtunes.com.bd/

এই পদ্ধতিতে সরাসরি লেআউট তৈরী করে এপ ডেভেলাপ করা হয়। অন্য কোন কিছু না করেই এপের ভেতরের কোন একটি স্ক্রিন তৈরী করে ফেলা যায়। টুল ক্রিয়েটর দিয়ে এপের লেআউটের টেকনিক্যাল কাজ নির্দেশ করা সম্ভব। কোন জায়গায় টাচ করলে এপে কি হবে সেটাও এই টুল ক্রিয়েটর দিয়ে ঠিক করা যায়। এই ধরনের টুলের মাধ্যমে এপ তৈরী করা জটিল এপ ডেভেলাপিংএর একদম উল্টা। কিন্তু এই ধরনের এপ বিল্ডিং টুলগুলো অনেক দামী হয়।

ব্যতিক্রম শুধু MIT এর App Inventor এটা সম্পূর্ণ ফ্রী এবং অসাধারণ সব ফিচার সমৃদ্ধ। মাত্র কয়েক মিনিটের মাঝেই এর সাহায্যে এপ তৈরী করা সম্ভব এবং সেটা কোন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে কিংবা ইমুলেটরে টেস্ট করাও পানির মত সোজা।

কোডিং বা প্রোগ্রামিং

এপ ডেভেলাপিং এর দ্বিতীয় রাস্তাটি হল এই কোডিং বা প্রোগ্রামিং। এটা অবশ্যই খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া। একবারে সোর্স ফাইলে কোড লিখো, কম্পাইল করো তারপর এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রামে রূপান্তরিত করো্‌। সিরিয়াসলি! এত্ত ঝামেলা। তারপ্র আবার কোন সমস্যা হলে আবার নতুন করে করো! উফফ!

একই সাথে বোরিং, টাইম কিলার এবং পরিশ্রমের।

http://www.techtunes.com.bd/

যদিও এপ ডেভেলাপিং এ কোডিং এ বেশি সময় লাগে না কিন্তু সময় লাগে ডিজাইনিং এ এবং কিভাবে কি কাজ করতে সেটা ঠিক করতে করতে। ভাল একজন প্রোগ্রামার খুব অল্প সময়েই একটি ভাল প্রোগ্রাম লিখতে পারে কিন্তু এপ তৈরীর জন্য এপ এর ইন্টারফেস ডিজাইন এবং কোথা থেকে কি হবে এটা করতে করতেই বুড়ো হয়ে যাবার মত অবস্থা তৈরী হয়। বিশ্বাস না হলে ভাল কোন একজন প্রোগ্রামারকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। সর্বোচ্চ ১৫-২০% সময় লাগে প্রোগ্রামিং এ।

অ্যান্ড্রয়েড এপ এর জন্য কোড অনেকভাবেই লেখা যায়। তবে সবচেয়ে সহজ এবং প্রচলিত অ্যান্ড্রয়েড এপ কোডিং করার ল্যাংগুয়েজ হল ‘জাভা’। এই জাভা শেখা যে কত্ত ঝামেলার যে এটা শিখছে সে ই একমাত্র জানে। এছাড়াও যে কোন ল্যাঙ্গুয়েজই ব্যবহার করা হোক না কেন সেই ল্যাঙ্গুয়েজটির সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে বেসিক লেভেল থেকে। আবার পারফর্মেন্স-ইনটেনসিভ এপ যেমন গেমস এর ক্ষেত্রে থাকতে হবে C+ এর মত ল্যাঙ্গুয়েজের ধারণাও।

আর তাই কোডিং বা প্রোগ্রামিং করে একজন একটা ভাল মানের এপ ডেভেলাপ করে ফেলবে ব্যাপারটা অনেক কঠিন। আর কেউ যদি করেও তাহলে লাগবে প্রচুর পরিশ্রম আর সময়। তাই কেউ যদি এপ ডেভেলাপিং এ নতুন হয় আর কোন একোয়াত এপ এখনই বানাতে চায় তার জন্য এটা ভাল কোন রাস্তা না। হ্যাঁ, যত করবে তত শিখবে। কিন্তু সিরিয়াস বিষয়ে আর এসব মাথায় থাকে না।

কোনটা বেছে নিবেন?

http://www.techtunes.com.bd/

তো যখন ব্যাপারটা বেছে নেয়া সম্পর্কে তখন অবশ্যই সেরা উপায়টা বেছে নিতে হবে। এপ ডেভেলাপিং এর সেরা উপায় হল কোডিং। যদিও এটা সময়সাপেক্ষ, পরিশ্রমের এবং ঝামেলার তারপরেও আন্তর্জাতিক মানের একটা এপ তৈরীর জন্য কোডিংই সেরা রাস্তা।

তবে আপনি যদি এমনিতেই এপ ডেভেলাপিং করতে চান, কোন সিরিয়াস বিষয় না হয়, কোন একাডেমিক শিক্ষা না থাকে এবং কোডিং সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকে তাহলে পয়েন্ট এন্ড ক্লিকই আপনার জন্য ভাল হবে। কিন্তু কথা যদি হয় এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার তাহলে যত যাই কিছুই হোক, যত সময়ই লাগুক আপনাকে শিখতে হবে প্রোগ্রামিং এবং শুধুমাত্র প্রোগ্রামিং।

আবার প্রফেশনালি কাজ করতে হলে দুটো নিয়েই কাজ করতে হবে। এপ ডিজাইনিং কনসেপ্ট এবং প্রোটোটাইপ বা ডেমো দ্রুত তৈরী করার জন্য পয়েন্ট এবং ক্লিক খুবই কার্যকর। কোন প্রজেক্টে কাজ করার সময় আইডিয়া ডেমনস্ট্রেট করতে এটা ব্যবহার করা যায়। তারপর সেই আইডিয়া অনুযায়ী প্রোগ্রামিং বা কোডিং করে এপ তৈরী করা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে।

এই গাইডে আমরা একটি রাস্তা নিয়ে একসাথে কাজ করব।

*শুধুমাত্র আমরা MIT এর App Inventor দিয়ে পয়েন্ট এন্ড ক্লিক এর মাধ্যমে এপ এর আইডিয়া উপস্থাপন করব। এবং একটা এপ তৈরী করব।

 তো এবার এপ ডেভেলাপিং শুরু করি

http://www.techtunes.com.bd/

অনেক বকবকানি হইছে এখন কি এপ ডেভেলাপিং শুরু করা যায়? না, এখনও শুরু করা যায় না। লাফ দিয়ে এপ ডেভেলাপিং শুরু করার আগে আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে নেই।

যা জানতে হবে

http://www.techtunes.com.bd/

যে কোন কিছুই শুরু করার আগে সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করে নেওয়া ভাল। তা না হলে অন্তত কিছুটা জ্ঞান অবশ্যই শুরু করার আগে অর্জন করতে হবে। আমরা যেহেতু এখানে কিছু সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করব তাই আমাদের আগে সেই সফটওয়্যারগুলোর সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিৎ। সফটওয়্যার যা আমরা ব্যবহার করব সেগুলো আসলে কি কাজ করে? কি কাজ করতে পারে? যে এপটি বানাতে চাচ্ছি সেটি কেমন হবে? বানানো ঠিক হবে কিনা? এ ধরনের তথ্যগুলো জেনে নেয়া জরুরি।

মনে করি আপনার যে এপটি তৈরী করতে চাচ্ছেন সে এপটি এমন একটি এপ যেটি আমার সারাজীবনের কর্মকান্ড ভ্লগ করে রাখার সুযোগ দেয়। কিন্তু এটা অবাস্তব চিন্তা। আপনি এমন একটা এপ বানাতে পারেন যেটা ভিডিও রেকর্ড করবে কিন্তু সারাজীবন এর সবকিছু রেকর্ড করবে এমন কিছু করা সম্ভব না, স্টোরেজ বলে একটা কথা আছে না! আপনি হয়ত ভাবছে ক্লাউডে কিছু ভিডিও রেখে দিবেন, অনেকগুলো স্টোরেজ এক্সেসরিস ব্যবহার করবেন কিন্তু শুধু একবার ভাবুন হাই রেজুলেশনে ৫ মিনিটের একটা ভিডিওর সাইজ কত হয়! আর সারা জীবন!

আপনি একটি বাস্তবসম্মত এপ বানানোর চিন্তা করলেন এখন যে এপটা আপনি বানাতে চাচ্ছেন সে ধরনের এপ আপনি যদি পয়েন্ট এন্ড ক্লিক পদ্ধতিতে বানাতে চান তাহলে আপনাকে জানতে হবে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন সেটা দিয়ে সে ধরনের এপ বানানো সম্ভব কিনা! আর এর জন্য জানতে হবে সফটওয়্যারটি সম্পর্কে।

আবার আপনি একটি এপ বানানোর চিন্তা করলেন বাস্তবসম্মত এবং বানানো সম্ভব কিন্তু এই ধরনের অনেক জনপ্রিয় এপ আছে এবং সম্পূর্ণ ফ্রিতে আছে তাহলে সে এপ বানিয়ে লাভ কি! আপনার মত নতুনের তৈরী করা ভুলে ভরা একটি এপ কি মানুষ ব্যবহার করবে নাকি ভাল কোন কোম্পানির সেরা ফিচার সম্পন্ন কোন এপ ব্যবহার করবে? আর তাই জানতে হবে মার্কেট সম্পর্কেও। তবে আপনি যদি শুধুমাত্র শখের বশে এপ বানাতে চান তাহলে অন্য কথা।

এবার শুরু করা যায়

হ্যাঁ এবার শুরু করা যায়। প্রথমেই আমাদের কিছু সফটওয়্যার ইন্সটল করে নিতে হবে।

http://www.techtunes.com.bd/

প্রথমেই লাগবে MIT App Inventor। অ্যান্ড্রয়েডের ডিভাইসে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহারের জন্য আছে অ্যান্ড্রয়েড এপ। প্লেস্টোরে সার্চ করলেই পাবেন। অ্যান্ড্রয়েড ছাড়া অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেমের ডাউনলোড করলে ইন্সটলের পর সফটওয়্যারটি ওপেন হলে দেখতে হবে কানেকশন ঠিক আছে কিনা।

এজন্য Connect মেনু থেকে Emulator এ যেতে হবে।

http://www.techtunes.com.bd/

দ্বিতীয়ত লাগবে Android Studio। ডাউনলোড করার পর অন্যান্য সফটওয়্যারের মতই এটা ইন্সটল করে নিতে হবে। ইন্সটল করার পর এটা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। জাভা কোডিং করে এপ তৈরীর জন্য এটা ব্যবহৃত হয়। আমাদের এটা লাগবে না।

এপ ডেভেলাপিং শুরু

আমরা একটা সিম্পল এপ ডেভেলাপ করব। মাত্র দুটি স্ক্রীণ নিয়ে এপটি তৈরী করব। যার প্রথম পেজটি হবে হোমপেজ। হোমপেজে বাটন থাকবে দুটি। একটি হল Exit আর আরেকটি হল Edit। আর দ্বিতীয় পেজটি হবে Edit এর। যেখানে টেক্সট লেখা বা টাইপ করা এবং সেভ করা যাবে। প্লেইন টেক্সট হিসেবে লেখা হবে এবং সেভ হবে।

http://www.techtunes.com.bd/

প্রথমে App Inventor ওপেন করে একটি নতুন প্রজেক্ট খুলুন। পর্দার বাম পাশে Start new project এর উপর ক্লিক করে কিংবা উপরে Project নামের ড্রপ ডাউন মেনু থেকে নতুন প্রজেক্ট খুলতে পারবেন।

http://www.techtunes.com.bd/

ইচ্ছামত নাম দিন প্রজেক্টের। Ok ক্লিক করুন।

http://www.techtunes.com.bd/

চলুন App Inventor এর ইন্টারফেসের সাথে পরিচিত হয়ে নেই।

http://www.techtunes.com.bd/

1) উপরের টাইটেল বার প্রজেক্টের নাম দেখায়। নাম যা দেওয়া হয়েছিল সেটা দেখাবে। এখান থেকে এপ স্ক্রিন এড করা, রিমোভ করা কিংবা দুই বা ততোধিক স্ক্রীণের মাঝে পরিবর্তন করা সম্ভব।

2) বামপাশের সাইডবারে এখানে সকল ধরনের টুল আছে এপ টৈরীর জন্য যা যা লাগবে।

 3) কি ফ্যাশনে এপ তৈরি করা হচ্ছে সেটা দেখাবে। এপে যা কিছু এড করতে হবে তার সবকিছু এখানে ড্র্যাগ করে আনতে হবে। এটা এপের মূল স্ক্রীণ।
 4) ইতিমধ্যে এপ স্ক্রীণে (3 নম্বর এর স্ক্রীণে) কি কি এড করা হয়েছে সেটা দেখায়।
 5) ইমেজ, সাউন্ড বা ভিডিও ক্লিপ এড করার জন্য এটা ব্যবহার করা হয়।
 6) প্রপার্টিস থেকে সিলেক্টেড থাকা যেকোন টুল বা জিনিস এর বিভিন্ন পরিবর্তন করা যায়।

প্রথম স্কীনটি তৈরী করে ফেলি এবার।

ইউজার ইন্টারফেস থেকে দুইটা বাটন(Button) এবং দুইটা লেবেল(Label) ড্র্যাগ করে স্ক্রীনের ভেতর নিয়ে আসুন।

http://www.techtunes.com.bd/

ইচ্ছামত লেবেলের ভেতরে টেক্সট দিতে পারবেন। টেক্সটের রঙ দিতে পারবেন এবং ইচ্ছামত যেখানে ইচ্ছা রাখতে পারবেন।

http://www.techtunes.com.bd/

এখন লেআউট তৈরি। তো এখন কাজ হচ্ছে লেআউটকে ফাংশনাল করা। বা পাশের উপরে Blocks এ ক্লিক করুন। Designer View এর মত একটা লেআউট দেখতে পাবেন। বাম পাশে Built In এর ভেতর Control, Text এবং Variables এর মত অপশন আছে।

http://www.techtunes.com.bd/

আমাদের বিষয় হল দুইটা বাটন। এর মধ্যে একটা বাটনে ক্লিক করলে এপটা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা করার জন্য Blocks এর নিচে Button 1 ও Button 2 নামে যে দুইটা অপশন আছে সেখান থেকে Button 2 এর উপ ক্লিক করব। when Button2.click এর যে বক্সটা আসবে সেটা টেনে মূল স্ক্রীণে আনব।

http://www.techtunes.com.bd/

এখন  Built-in > Control সেকশনে গিয়ে close application নামে যে ব্লকটা আছে সেটা ড্র্যাগ করে আগের when Button2.click এর উপর এনে ছেড়ে দিতে হবে।

http://www.techtunes.com.bd/

Button 1 এর Edit বাটনটিকে কাজ করাতে হলে প্রথমে কিছু কাজ করে নিতে হবে। দ্বিতীয় স্ক্রিণটি তৈরী করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় স্ক্রীণটিও তৈরী করে ফেলি

এখন আবার ডিজাইনারে ফেরত গিয়ে নতুন একটি স্ক্রীণ তৈরী করতে হবে। এবং সেখানে একটি টেক্সটবক্স তৈরী করতে হবে আর তার নিচে Save নামে আরেকটি বাটন। আর তারপর  Display hidden components in Viewer চেকবক্সে টিক দিয়ে দিন।

http://www.techtunes.com.bd/

http://www.techtunes.com.bd/

এখন আবার Block এ ফিয়ে যেতে হবে। এখান থেকে when Button1.click ড্র্যাগ করে এনে তার উপর আবার call File1.saveFile নিয়ে আসতে হবে। তাহলে আমাদের Save বাটন কনফিগার হয়ে যাবে।

আরো কিছু ছোটখাট কাজ করে ফেলতে হবে Editor > when Editor.initialize ব্লকের উপর call File1.ReadFrom নিয়ে আসতে হবে। File > when File1.GotText করতে হবে  TextBox > set TextBox.Text to এর উপর। এখন সেভ করার পরে মেইন মেনুতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওার জন্য Back To Main Menu নামের আরেকটি বাটন এড করতে হবে।

http://www.techtunes.com.bd/

এখন দ্বিতীয় স্ক্রীণের কাজ শেষ। প্রথম স্ক্রীণ বা হোমস্ক্রীণের Button 1 এর বাকি কাজটুক এখন করত্তে হবে। এর জন্য হোমস্ক্রীণে ফিরে যেতে হবে।

 হোমস্ক্রীণে ফিরে গিয়ে Button 1 এ Control > open another screen এ গিয়ে Editor সিলেক্ট করে দিতে হবে।
 http://www.techtunes.com.bd/

কনগ্রেচুলেশন! আপনি একটি এপ তৈরী করে ফেলেছেন।

তবে কাজ শেষ না। আপনাকে এই এপটিকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ব্যবহারের উপযোগী বানাতে হবে। এটিকে APK ফরম্যাটে রূপান্তর করতে হবে।

এপ ফাইনালাইজিং

এখন Build মেনু তে যান। সেখান থেকে App এর উপর মাউস রেখে save.apk to my computer এর উপর ক্লিক করুন। APK তৈরীর কাজ শুরু হয়ে যাবে।

http://www.techtunes.com.bd/

APK তৈরী হয়ে গেলে এখন এটা যে কোন অ্যান্ড্রয়েড ডীভাইসে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে।

 http://www.techtunes.com.bd/

উহুহু! আপনি সফলভাবে একটি অ্যান্ড্রয়েড এপ ডেভেলাপ করে ফেলেছেন। এপ বিচারে আপনার নিজের কাছে কিংবা আশেপাশের মানুষের কাছে এটাকে হয়ত কিছুই মনে হবে না কিন্তু বিশ্বাস করুন এই ছোট কাজটাই আপনাকে বড় কাজ করতে উৎসাহিত, অনুপ্রানিত এবং সাহায্য করবে।

Good Luck


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *