“আই ফোন’”-এর i আই -এর মানে কী আর আই-ফোনের বিজ্ঞাপণেই ফোনের ডিসপ্লেতে সময় হিসেবে সকাল ৯৪১ কেন থাকে? আর সাথে আইফোন সেভেন’এ কী আছে? | Techtunes


টিউনের শুরুতে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালোই আছেন।

হাজারো কাজের মাঝে আজকের ছুটির দিনে কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে মনে হল একটা টিউন করি, কি নিয়ে? গোটা বিশ্ব যখন আইফোনে মেতে তখন সেটাই আজকের বিষয় করলাম আইফোন  ‘‘ আইফোন ’’-এর i (আই) -এর মানে কী আর আই-ফোনের প্রতিটি বিজ্ঞাপণেই ফোনের ডিসপ্লেতে সময় হিসেবে সকাল ৯.৪১ দেখানো হয় কেন আর সাথে আইফোন সেভেন’এ কী আছে?

আইফোন, আইপ্যাড, আই ম্যাক। সবই তো ব্যবহার করেছে এবং করছেন। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, i (আই) -এর অর্থ কী? কেন i (আই) এলো?

না। স্টিভ জোবস এত অহঙ্কারি ছিলেন না যে, স্বমহিমা প্রকাশে সর্বত্র ‘i (আই)’ জুড়ে দেবেন। ১৯৯৮ সালে যখন আইম্যাক বাজারে আসে, তখন ইন্টারনেট কলেবরে বাড়ছে। সেই কথা মাথায় রেখে জোবস ইন্টারনেট-কে মাথায় রেখে বলেছিলেন, ‘‘i (আই) হল ইন্টারনেট। ’’ এর পরে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেট। জোবস-এর ব্যবসাও বাড়তে থাকে বিভিন্ন দিকে। ফলে সেই i (আই)-এর অর্থেও বিস্তৃতি ঘটান জোবস। বর্তমানে i (আই)-এর অর্থ হল ইনফরমেশন, ইন্ডিভিজুয়াল ইনস্ট্রাক্ট, ইনফর্ম এবং ইনস্পায়ার। এই চারটি শব্দের উপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘অ্যাপল’-এর ব্যবসায়িক দর্শন।

অ্যাপেলের আই-ফোন বা আই পডের বিজ্ঞাপণ খুঁটিয়ে দেখেছেন?

যদি দেখে থাকেন, তা হলে খেয়াল করে দেখবেন আই-ফোনের প্রতিটি বিজ্ঞাপণেই ফোনের ডিসপ্লেতে সময় হিসেবে সকাল ৯.৪১ দেখানো হয়। ভাবছেন হঠাৎ সকাল ৯.৪১-কে বেছে নেওয়ার কারণ কী?

আসলে, স্টিভ জোবসের হাত ধরে আই-ফোনের আত্মপ্রকাশের সঙ্গে এই সময়টি জড়িয়ে রয়েছে। ২০০৭ সালে ম্যাক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স এবং এক্সপোতে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আই-ফোন লঞ্চ করেছিলেন জোবস। কিন্তু, নিজের নিপুণ সময়জ্ঞানের দৌলতে জোবস অনুমান করতে পেরেছিলেন, যে সময়ে তিনি প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে আই-ফোনের আত্মপ্রকাশ করবেন, তখন ঘড়ির কাটায় ৯.৪১ বাজবে। সেই অনুযায়ী, নিজের বিজ্ঞাপণের টিমকে লঞ্চ হতে চলা আই-ফোনের মডেলের ডিসপ্লেতে সময় দেখানোর জায়গায় আগেভাগে ৯.৪১ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন জোবস। বাস্তবেই আসল সময়ের সঙ্গে জোবসের হিসেব মিলে গিয়েছিল। যখন আই-ফোন লঞ্চ করা হয়েছিল, তখন ঘড়ির কাঁটাতেও সময় ৯.৪১-এর আশেপাশেই ছিল।  তারপর থেকেই ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সমস্ত বিজ্ঞাপণে আই-ফোন এবং আই-প্যাডের ডিসপ্লেতে সময়ের জায়গায় সকাল ৯.৪১ বাজতে দেখা যায়।

আইফোন সেভেন’এ কী আছে?

দেখতে আইফোন সিক্স এবং আইফোন সিক্স এস’এর মতোই প্রায় আইফোন সেভেন। তবে ওইটুকুই। বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে গিয়েছে আইফোন সেভেন। প্রেশার-সেন্সিটিভ হোম বাটন, ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি লাইফ তো বটেই। হেডফোনের জ্যাক-ই থাকছে না নতুন আইফোনে।

সান ফ্রান্সিসকোর আইফোন সেভেন লঞ্চে কী হল?

অ্যাপল ঘোষণা করল তাদের ৪.৭ ইঞ্চির আইফোন সেভেন এবং ৫.৫ ইঞ্চির আইফোন সেভেন প্লাসের কথা। অ্যাপল ওয়াচ’এর লেটেস্ট ভার্সন সিরিজ টু এবং তার সঙ্গে নতুন ওয়্যারলেস হেডসেট অ্যাপল এয়ারপড’এর ঘোষণাও করা হয়।

আইফোন সেভেন’এ কী আছে?

  • সলিড কালারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে নতুন আইফোনে। ম্যাট ফিনিশ করা সলিড ব্ল্যাক এবং গ্লসি জেট-ব্ল্যাকেও পাওয়া যাবে আইফোন সেভেন।
  • ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ থাকছে। পিছনের অংশে ক্যামেরার লুক বদলে দেওয়া হয়েছে অনেকটাই। এতে আরও ওয়াইড অ্যাঙ্গল ছবি তোলা সম্ভব হবে। ডেপ্‌থ অফ ফিল্ডও আগের চেয়ে অনেকটা বেশি পাওয়া যাবে।
  • হেডফোন জ্যাকই থাকছে না। লাইটনিং পোর্টের মাধ্যমে অডিও ডিভাইসগুলোর সঙ্গে কানেক্ট করবে আইফোন সেভেন এবং সেভেন প্লাস।
  • হোম বাটন সেভাবে থাকছে না।
  • ‘টাচ স্পেসিফিক’ অংশ হোম বাটনের কাজ করবে হ্যাপটিক ফিডব্যাকের মাধ্যমে। মানে স্পর্শ করার অনুভূতিটা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল আর কী! কিছুক্ষণ অন্তরই যার সাহায্যে একটা ‘বাজ্‌’ অনুভব করবেন।

  • কোয়াড-কোর এ টেন ফিউশন প্রসেসর এই ফোন দু’টিতে রাখা হয়েছে। দু’টো হাই-এফিশিয়েন্সি এবং দু’টো হাই-পাওয়ার প্রসেসর। আগের আইফোনের ব্যাটারির চেয়ে অন্তত দু’ঘণ্টা বেশি ব্যাটারি ব্যাক-আপ দেবে ফিউশন প্রসেসর।

কত দাম?

৬০ হাজার থেকে শুরু হচ্ছে আইফোন সেভেনের দাম। আইফোন সেভেন প্লাসের দাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, আরও ১০ হাজার টাকা বেশি হতে পারে তার দাম।

দাম কি খুব বেশি হয়ে গেল?

না, বিশেষজ্ঞেরা বরং উল্টো কথা বলছেন। আইফোন সিক্স এস যখন লঞ্চ হয়েছিল ৬২ হাজার টাকা থেকে শুরু, যেটা ছিল ১৬ জিবি। আইফোন সেভেন এবং সেভেন প্লাস’এর বেস স্টোরেজ ৩২ জিবি।

১৬ জিবি আইফোনের জমানা কি শেষ?

খানিকটা সেরকমই ধরে নিন। কে আর ৩২ জিবি ছেড়ে ১৬ জিবি কিনতে চাইবে! আর নতুন মডেলগুলোয় ১৬ জিবি রাখছেও না অ্যাপল। বরং এবার ৬৪ জিবি, ১২৮ জিবি কিংবা ২৫৬ জিবি’র কথা ভাবুন!

৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাকের কী হবে?

থাকছে না। লাইটনিং পোর্ট বানিয়ে ফেলেছে অ্যাপল। আইফোন ইউজাররা সাধের হেডফোনটা কী করবেন তাহলে? একটা হেডফোন জ্যাক অ্যাডাপ্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাদের জন্য।

সেভেন এবং সেভেন প্লাস, দু’টোতেই কি ডুয়েল ক্যামেরা থাকছে?

না। সেভেন প্লাসে থাকছে শুধু। সেভেনের ক্যামেরাও ভাল। তবে সেভেন প্লাসে ওয়াইড অ্যাঙ্গল, টেলিফোটো কম্বিনেশনটা বাড়তি। সেভেনে অপটিকাল ইমেজ স্টেবিলাইজার আছে। সেভেন প্লাসে টু-এক্স অপটিকাল জুম এবং টেন-এক্স ডিজিটাল জুম করা যাবে। ব্যাপারই আলাদা.

শেষ করার আগে

অনুসরন করুন কিন্তু অনুকরণ করবেন না। যারা টিউমেন্টে তাদের অসুবিধার কথা বলেন তারা যেন পরে আর একবার টিউমেন্ট করেন, সাহায্য পেলে বা উপকৃত হলে। কারণ তাহলে জানা সম্ভব হয় যে সাহায্য করতে পারলাম কিনা। আমার এই টিউন যদি কারোর খারাপ লেগে থাকে তবে আমি একান্তই দুঃখিত। আমার কাউকে দুঃখিত করার কোনো প্রকার উদ্দেশ্য নেই।

নির্বাচিত টিউন হওয়ার উপযুক্ত মনে হলে নির্বাচিত টিউন মনোনয়ন করতে পারেন। আর দয়া করে টেকটিউনকে সাপোর্ট, প্রমোট করুন, আর অবশ্যই নির্ভেজাল টিউন করে টেকটিউনস পরিবারকে সমৃদ্ধ করুন।

খুব তাড়াতাড়ি ফিরছি আবার পরের টিউন নিয়ে। ভালো থাকবেন, ভালো রাখবেন, আর প্রবেলম হলে আমিতো টেকটিউনসে আছি।

আমার টিউন গুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আমার টিউন বেশি বেশি জোসস করুন

আমার টিউন গুলো আপনার ‘টিউন স্ক্রিন’ নিয়মিত পেতে অবশ্যই আমাকে ফলো করুন। আমার টিউন গুলো সবার কাছে ছড়িতে দিতে অবশ্যই আমার টিউন গুলো বিভিন্ন সৌশল মিডিয়াতে বেশি বেশি শেয়ার করুন

আমার টিউন সম্পর্কে আপনার যে কোন মতামত, পরামর্শ ও আলোচনা করতে অবশ্যই আমার টিউনে টিউমেন্ট করুন

আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য ‘টেকটিউনস ম্যাসেঞ্জারে’ আমাকে ম্যাসেজ করুন। আমার সকল টিউন পেতে ভিজিট করুন আমার ‘টিউনার পেইজ’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *