উটপাখির পালক ধরে টানছিল দর্শনার্থীরা (ভিডিও)


উটপাখির খাচার সামনে দর্শনার্থীরাঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। এদিন সব বয়সী দর্শনার্থী বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর খাঁচার সামনে ভিড় করেন। তবে বিনোদনের জন্য চিড়িয়াখানায় গিয়েও আইন অমান্য করে অনেকেই প্রাণিগুলোকে বিরক্ত করছিলেন। অনেকেই বানরকে খাবার ছোড়া, ভাল্লুকের সামনে হাত নেড়ে দুষ্টুমি করা, বাঘ-সিংহের খাঁচার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাওয়া ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এমনকি কয়েকজন দর্শনার্থী উটপাখির পালক ধরেও টানাটানি করছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় অন্যান্য বণ্যপ্রাণীর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীর যেমন ভিড় ছিল, ঠিক তেমনি ভিড় দেখা গেছে উটপাখির খাঁচার সামনেও। উটপাখি পাখির প্রজাতির মধ্যে অন্যতম বড় পাখি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন দর্শনার্থী খাঁচার ভেতরে থাকা উটপাখিকে ঘাসের প্রলোভন দিয়ে কাছে আনার চেষ্টা করেন। পাখিটি কাছে আসার পর তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেলফি তোলেন। পাখিটি দর্শণার্থীদের হাত থেকে ঘাস ঠুকড়ে ঠুকড়ে খাচ্ছিল। ওই সময় রাসেল নামে একজন দর্শনার্থী খাঁচার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত গলিয়ে উটপাখির পালক ধরে টানাটানি করেন। এতে বেশ বিরক্ত হয়ে ওঠে উটপাখিটি। কামাল নামের অন্য একজন গ্রিলের ফাঁক দিয়ে উটপাখির মুখের কাছে হাত নিয়ে যান। তিনি হাত দিয়ে পাখিটিকে ঠোকড় দেওয়ার চেষ্টাও করেন। এছাড়া আরেক ব্যক্তি পাখিটিকে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছিলেন।  

উটপাখির পালক ধরে টানাটানি করার কারণ জানতে চাইলে দর্শনার্থী রাসেল বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেন, ‘সিকিউরিটি নাই বলে একটু ধরছি। উটপাখির পালক কেমন, তাই দেখতে একটু ধরেছিলাম।’  চিড়িয়াখানার খাঁচার ভেতরের বণ্যপ্রাণী ছোঁয়া বা ধরা যাবে না। এমন নিষেধাজ্ঞার কথা জানেন কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে দর্শনার্থী কামাল বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেন, ‘ধরা যাবে না সেটা জানি। তবে এটা উটপাখি, বাঘ তো না। তাই একটু সাহস করে ধরলাম।’ 

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ২৬টি মাইকের মাধ্যমে সবসময় ঘোষণা করছিল, ‘কোনো বণ্যপ্রাণীকে বিরক্ত করবেন না। খাঁচার নিরাপত্তা বেস্টনি অতিক্রম করবেন না।  কোনও প্রাণিকে খাবার দেবেন না।  বন্যপ্রাণীদের খাঁচা থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন। নিজে ভালো থাকুন, বন্যপ্রাণীদেরও ভালো রাখুন।’   এরপরও কিছু দর্শনার্থী নিষেধাজ্ঞা মানছিলেন না। 

কালো ভাল্লুকের খাঁচার সামনে ইব্রাহিম নামে আরেক দর্শনার্থী প্রাণিটিকে খাবার দিতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ঝুঁকি নিয়ে ভাল্লুকের খুব কাছ থেকে খাবার দিচ্ছিলেন। পরে তিনি আবার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঢুকে ভাল্লুকের সঙ্গে সেলফিও তোলেন। এমন করার কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, ‘যেভাবে ও মাথা নাড়ছিল তা দেখে একটু আনন্দ পেয়েছি। তাই হাতে থাকা পপকর্ন দিচ্ছিলাম। ভাল্লুক পপকর্ন খায় কিনা দেখার চেষ্টা করছিলাম।’

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এসএম নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও বণ্যপ্রাণীদের সুরক্ষার স্বার্থে ২৬টি মাইক দিয়ে নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি খাঁচার সঙ্গে নির্দেশনা লিখে দেওয়া হয়েছে। এখন যদি দর্শনার্থীরা সচেতন না হয় তবে চিড়িয়াখানার শৃঙ্খলা বজায় থাকে না।

 ভিডিও: 

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *