এখনো হুমকি জেএমবি


সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর আজ

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৩ বছর আজ। ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নিজেদের শক্তির জানান দেয়। এর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেএমবি দমনে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এ অভিযানকালেই আরও বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা চালায় শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন জেএমবি। পরবর্তীকালে একে একে ধরা পড়তে থাকে সংগঠনটির নেতৃস্থানীয়রা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেএমবির কার্যক্রম। পরবর্তীকালে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে শায়খ আবদুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানিসহ ছয় শীর্ষ জঙ্গির মৃত্যুদ- কার্যকর হয়। তার পরও জেএমবিকে দমানো যায়নি। এখনো দেশের নিরাপত্তায় হুমকি এ 

জঙ্গি সংগঠনটি। 
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে জেএমবি আবার নতুন করে তাদের শক্তির জানান দেয়। এ হামলার আগেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন ধারার জেএমবি একের পর এক জঙ্গি হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকা- শুরু করে। তারা পীর, ফকির, খ্র্রিস্টান যাজক, পুরোহিত, বৌদ্ধভিক্ষু, এমনকি শিয়া মসজিদেও হামলা চালায়। পরবর্তীকালে র‌্যাব-পুলিশের টানা অভিযানে নতুন ধারার জেএমবির বেশির ভাগ নেতৃস্থানীয় নেতা নিহত ও গ্রেপ্তার হয়। তার পরও এখনো জেএমবিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা হুমকি হিসেবেই দেখছেন। 
এদিকে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা ও পরবর্তীকালে আরও বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ৯৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ১০টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ। বাকি ৫৬টি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরও বিচারাধীন ছিল মামলাগুলো। এক বছরে মামলাগুলোর কোনো ধরনের অগ্রগতি নেই। 
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেন, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত যেসব জঙ্গি এখনো পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। তাদের অপতৎপরতার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসছে না। তাদের খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মামলা ঝুলে আছে। এমনকি অনেক মামলায় ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত জঙ্গিদেরও গ্রেপ্তার করতে না পারায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করাও সম্ভব হয়নি। 
ঢাকা মহানগর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি (ভারপ্রাপ্ত) শাহ আলম তালুকদার বলেন, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ঢাকায় দায়ের হওয়া ১৮টি মামলার মধ্যে ১১টির ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি চলমান, আর দুটির রায় হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও থানার মামলায় দুজনকে ১০ ও ৭ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আর বিমানবন্দর থানার মামলায় একজনকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মামলা দায়েরের সময় কাউকে আসামি করা হয়নি, সব অজ্ঞাত ছিল। তাই তদন্ত করে অনেককে আটকের পর আসামি করা হচ্ছে। আর সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না বলে মামলা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। 
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ ১৪৯টি মামলায় ১১০৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। বাকি ১০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। 
আদালত সূত্র জানায়, দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ৯৩টির রায়ে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে ৩৩৪ জনকে সাজা দেয় আদালত। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে দেওয়া হয় মৃত্যুদ-। এর মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩৪৯ অভিযুক্তকে বেকসু খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন আছে ৩৮৬ জন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *