ক্রিয়েটিভিটি ও তার চুলচেরা বিশ্লেষণ :: চ্যালেঞ্জ করছি আপনাকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন? | Techtunes


কোন মানুষ খুব ভাল করে নতুন নতুন ভাষা রপ্ত করতে পারে আবার কেউ খেলাধুলায় অনেক ভাল করে কেউ আবার ভাল গান গায় কিংবা কবিতা লেখে আরো কেউ হয়ত অসাধারণ ছবি আঁকে। এদের সবাই কি ইশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়? না সবাই তো আর ট্যালেন্টেড হয় না। কিন্তু তারপরেও তারা জীবনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়, সফলতার চুড়ায় আরোহণ করে।

কিসের কারণে? কিসের ভিত্তিতে? শুধুমাত্র হার না মানা মানসিকতায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার এবং নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেস্টার কারণে তারা তাদের স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখে, শুধু ছুয়েই দেখে না স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সবাই সৃজনশীল ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর কখনই হার না মানা পণ নিয়ে চেষ্টা করে গেলে একসময় মস্তিষ্কের সৃজনশীলতার অংশ আর ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। জেগে উঠে এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে জেগে উঠে।
 http://www.techtunes.com.bd/

মানুষের উপর ভিত্তি করে সৃজনশীলতা পরিমাপ করা কঠিন; কেননা এটা একটা বিস্তৃত ধারণা কিন্তু একই সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। আর যখন আমাদের মত ডিজাইনারদের ক্ষেত্রে এই সৃজনশীলতার ব্যাপারটি চলে আসে তখন সেটা হয়ে উঠে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীল চিন্তা এবং কর্ম ছাড়া কোন ডিজাইনারই সফল হতে পারবে না। কখনই না। সৃজনশীলতা যেহেতু নিজেই একতা দক্ষতা তাই এই দুইয়ের বিস্তৃত মিশ্রণেই তৈরি হয় বিশ্বকাপানো সব ডিজাইনগুলো। আর মনে রাখতে হবে যে কেউই সৃজনশীল হতে পারবে। যে কেউ। দরকার শুধুমাত্র কখনো পিছিয়ে না যাওয়া মনোভাব আর নিরলস পরিশ্রম।

http://www.techtunes.com.bd/

আপনার সৃজনশীল ডিজাইনার মনকে কিভাবে উদ্দীপিত করবেন অথবা জাগাবেন? আমরা এই টিউনে এমন কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা করব। তো চলুন শুরু করা যাক।

সৃজনশীলতার চিত্রাঙ্কন

“Curiosity about life in all of its aspects, I think, is still the secret of great creative people” – Leo Burnett

প্নেক সময় কোন একটি সমস্যা সাধারণ উপায়ে কিংবা প্রচলিত উপায়ে সমাধান না করে সম্পূর্ণ নতুন কোন উপায়ে আরো ভালভাবে সমাধান করাটাই সৃজনশীলতার বড় একটা উদাহরণ হতে পারে। স্পষ্ট সৃজনশীলতার উদাহরণও দেখা যায়। যেমন, কোন একটি কোম্পানির জন্য লোগো তৈরি করে দেয়া একই কথা সমানভাবে রাজনীতি, পড়াশোনা, অর্থনীতি এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

দুইটা শন্দ মনে রাখতে হবে অপ্রত্যাশিত এবং অসাধারণ। কোন ডিজাইনারকে যখন কোন ক্লায়েন্ট কাজ দেয় সে ক্লায়েন্ট আশা করে এমন কিছু পাওয়ার যা হবে ইউনিক এবং মনোমুগ্ধকর। ক্লায়েন্টকে এমন কিছু তৈরী করে দেয়া যেটা সে চিন্তাও করতে পারে নি এবং একই সাথে মনোমুগ্ধকর সেটাই একজন ক্লায়েন্টকে খুশি করতে যথেষ্ট। আর অপ্রত্যাশিত কিছু করার জন্যই লাগবে সৃজনশীলতা।

শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে মানুষ সৃজনশীলতাকে বোঝার চেষ্টা করেছে। সভ্যতার গোড়ার দিকে মানুষ মনে করত সৃজনশীলতা অলৌকিক কিছু। তখন যারা সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত ছিল তাদের ইশ্বরের কৃপাধন্য মনে করা হত। কিন্তু বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে আমরা বুঝেছি সৃজনশীলতা আসলে সবার মস্তিষ্কেই থাকে। আরো মস্তিষ্কে সচলাবস্থায়, কারো মস্তিষ্কে সুপ্তাবস্থায় আবার কারো মস্তিষ্কে অচলাবস্থায়। আর যে কারো পক্ষেই সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

http://www.techtunes.com.bd/

অনেক সাইকোলজিস্ট সৃজনশীলতা সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন। এদের মধ্যে একজন Sigmund Freud বিশ্বাস করতেন সৃজনশীলতা হচ্ছে সচেতন এবং অবেচেতন মনের টেনশনের ফলাফল; সম্পত্তি, শক্তি এবং ভালবাসা এর সাথে সম্পৃক্ত। আবার অনেকটা সময় ধরে সাইকোলজিস্টরা ভেবেছেন সৃজনশীলতা হল শুধুমাত্র শিল্পী এবং বিজ্ঞানীদের সম্পদ সাধারণ মানুষের এর সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। সময়ের সাথে এই ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সৃজনশীলতা নির্ণয়ে একটা টেস্ট করেন বিজ্ঞানীরা। সেই টেস্টে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের একটা বাথরুমে একটি মাত্র ইটের কি কি ব্যবহার হতে পারে সেটা লিখে লিস্ট করতে বলা হয়েছিল। টেস্টটির নাম ছিল unusual uses

http://www.techtunes.com.bd/

ডিজাইনিং এ সৃজনশীলতা

http://www.techtunes.com.bd/

আমরা ডিজাইনাররা আবশ্যিকভাবেই অনেক দিক দিয়ে সৃজনশীল। আমাদের সৃজনশীলতা স্পষ্ট এবং বাস্তব। আমাদের ওয়েবসাইট এর লেআউট তৈরি, কর্পোরেট আইডেন্টিটি অথবা গ্রাফিক্যাল কাজ করতে হয়। আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী হল সৃজনশীলতা।

“You can’t wait for inspiration, you have to go after it with a club” – Jack London

এখন যখন সৃজনশীলতাকে একটি ধারাবাহিক উন্নতির প্রক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটা যে ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে উন্নত হয় সেটাও মেনে নেয়া হয়েছে তখন ডিজাইনিং এর ব্যাপারগুলো আরো স্পষ্ট হয়েছে। সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির সামনে যে কোন সমস্যাই আসুক না কেন নিজের চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে সে সেটা সফলভাবে মোকাবেলা বা সমাধান করতে পারবে। এবং যারা করতে পারবে না তাদেরও দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই যেহেতু সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

http://www.techtunes.com.bd/

সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য প্রথমেই সৃজনশীলতা সম্পর্কে আক্ষরিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এই টিউন পড়ে ইতিমধ্যেই সৃজনশীলতা সম্পর্কে আপনার কিছুটা জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। তারপর জানতে হবে বিষয় কে। যে বিষয়ে সৃজনশীল উদ্ভাবনি কাজ করতে চান সেটা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর একটার পর একটা সেই বিষয়ের কাজ করে যেতে হবে। যত সমস্যা আসবে নিজেই সেগুলো সমাধান করতে হবে।

এক্ষেত্রে আমাদের ডিজাইনিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। ইচ্ছামত ডিজাইনিং করতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সমস্যার মুখোমুখি হলে সেটার মোকাবেলা করতে হবে। কখনোই হার মানা যাবে না। আর এই সব কিছুর আগে নিজের সৃজনশীলতার ব্যাপারে কিছু কাজ করতে হবে। আসুন জেনে নেই সেরকম কিছু কাজের কথা।

অবচেতন মনকে তৈরী করতে হবে

http://www.techtunes.com.bd/

এটা ভুলবেন না আপনি কিন্তু আপনার প্রতিদিনের জীবনে এখনই সৃজনশীল। আপনি কিন্তু অনেক জটিল জটিল সব সমস্যার সহজ সমাধান করেছেন। আপনার কোন সমস্যা হয় নি। আপনার সৃজনশীল কাজের সময়েও আপনি পারবেন। কোন ধরনের চাপ নিবেন না। নিজের প্রতিদিনের জীবনের মতই যে ক্ষেত্রে সৃজনশীল হতে চান সে ক্ষেত্রটিকেও একদম সহজ ভাবে নিবেন। কাজ করার সময় সম্পূর্ণ মনযোগ দেবার চেষ্টা করবেন। এক সময়ে একটিই কাজ করবেন। এই সব কিছু আপনার অবচেতন মনের ক্ষমতা বাড়াবে।

আপনি পারবেন

http://www.techtunes.com.bd/


মনে রাখবেন দুনিয়াতে এমন কিছু নেই যা আপনি পারবেন না। দুইটা কথা ভুলবেন না,

  •  সবকিছুই পারবেন।
  • সবকিছুই করা যায়।

বিশ্বাস রাখবেন নিজের উপর। নিজের ক্ষমতার উপর।

ভেতরের শিশু মনকে জাগিয়ে তুলুন

http://www.techtunes.com.bd/

পৃথিবীর সবচেয়ে সৃজনশীল কারা জানেন? বাচ্চারা। তারা এক মিনিটেই চাঁদে পৌছে যাবার উপায় ভেবে ফেলে, আকাশে উড়ন্ত রিকশা একে ফেলে আরো কত কি! আপনি নিজেও ছোটবেলায় ছিলেন এরকম। ছিলেন না?
আপনার ছোটবেলার সেই বাচ্চা স্বভাবের অস্তিত্ব অনুভব করুন। সেখানে সেসময়ে ফিরে যান, তখনকার মত করে ভাবুন। আপনার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ

আপনার জন্য আমার একটা চ্যালেঞ্জ আছে। আপনি কি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত? মনে নেই, আপনি সবই পারবেন। কোন ভয় নেই। এই চ্যালেঞ্জেও আপনি সফল হবেন।

প্রতিদিন যখনই মাথায় কোন প্রশ্ন আসবে সেটা খাতায় লিখে রাখতে হবে। আর কোন চিন্তা বা আইডিয়া আসলে সেটা আঁকতে হবে আর্ট খাতায়। পাঁচ মিনিট অন্তত সেই লেখা বা আঁকার দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তারপর পাঁচ মিনিট যা ইচ্ছা ভাববেন। এটাই আপনার চ্যালেঞ্জ।

http://www.techtunes.com.bd/

উপরে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করেছি আমি। আমি জানি আপনি পারবেন, আপনিও জানেন আপনি পারবেন। কি পারবেন না?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *