গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ …-691828 | কালের কণ্ঠ


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় শেফালি আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূর পরিবারের দাবি তাঁকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে আটক করেছে। আজ সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকালে স্বামীর নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মারা যান। এরপরই পালিয়ে যান ওই গৃহবধূর স্বামী।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতল এলাকার সাইবুল ইসলামের মেয়ে শেফালি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে লিটন ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সামান্য বিষয় নিয়ে শেফালিকে মারধর করতেন লিটন। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে।

গতকাল রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ১০ দিন বাবার বাড়ি থাকার পর সন্তান নিয়ে শেফালি স্বামীর বাড়ি ফিরলে পারিবারিক কলহের জেরে আবারো তাঁকে মারধর করেন লিটন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেন স্বামী ও শাশুড়ি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মারা যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের এসব জানিয়েছেন শেফালি।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দায়ীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এরই মধ্যে পুলিশ ওই গৃহবধূর শ্বশুর খাদেমুল ইসলাম, শাশুড়ি সালমা ওরফে ডালিমন ও ননদ খায়রুন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্বামী লিটন গা ঢাকা দিয়েছেন।

শেফালির বাবা সাইবুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই লিটন ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। গতকাল আমার সুস্থ মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেই কিন্তু তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করেছেন। এমনকি ওরা আমাদের কিছুই জানাননি। স্থানীয়রা আমাদের এই খবর দেন। এর আগেও লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। একাধিকবার সালিস হলেও কোনো লাভ হয়নি।

শেফালির মা তসলিমা আক্তার বলেন, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ের জ্ঞান ফিরলে সে জানায়, তাকে মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে তার স্বামী ও শাশুড়ি। ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 

প্রতিবেশী সলেমান আলী বলেন, এর আগেও লিটন শেফালিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিসও হয়েছে। তারপরও লিটন ও তার পরিবারের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ওরা মেয়েটিকে বাঁচতেই দিল না। আমরা এলাকাবাসী লিটনসহ ওই পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই গৃহবধূর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং গৃহবধূর লাশ  ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার স্বামী পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *