চলুন প্রোগ্রামিং এর আশ্চর্য জগতে ভ্রমণ করি ।( পর্ব-১ )


images


টাইটেল দেখেই বুঝে ফেলেছেন আমি কি লিখতে চলেছি। হ্যা, আমি প্রোগ্রামিং এর জগতে নিয়ে যেতে চায় আগ্রহীদের।

প্রোগ্রামিং এর জগত কোথায় ? কিভাবে যাবো? কত টাকা ভাড়া? ইত্যাদি প্রশ্ন আসছে মনে …….কি … তাই তো ?
না, অনেকের মনেই এই প্রশ্ন আসেনি। কারণ তারা প্রোগ্রামিং জানে। তো আপনারা প্রস্তুত তো প্রোগ্রামিং শিখে প্রোগ্রামিং এর জগতে যাওয়ার জন্য ?

আগে এই প্রশ্নের উত্তর দিই

প্রোগ্রামিং করে কি হবে

আপনি ট্রিকবিডিতে আসছেন লেখাটা পড়ছেন এর পেছনে প্রোগ্রামিং এর অবদান আছে। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনীব্যক্তি কিভাবে এই পর্যায়ে এসেছে যানেন? প্রোগ্রামিং করে। ফেসবুক, টুইটার, গুগল সবকিছুই প্রোগ্রামিং এর কারনে সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্যাক্সি কোম্পানি উবার(Uber) যাদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই, বিশ্বের সবচেয়ে বদ রিটেইলার আলিবাবা (alibaba.com) যাদের কোনো পন্য নেই। তারপরও তারা প্রোগ্রামিং এর জ্ঞান দিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে।
আপনিও পারবেন কিছু করে দেখাতে।
মোবাইল অ্যাপস, গেমস বানাতে হলে প্রোগ্রামিং জানতে হবে।
গুগলেও চাকরি পেতে পারেন প্রোগ্রামিং শিখে। এর জন্য এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ না।

যেকোনো ভাষা দিয়েই শুরু করা যায় কিন্তু আমি সি দিয়ে শুরু করতে চায়।
তো এবার প্রোগ্রামিং শেখার আগে সি প্রোগ্রামিং ভাষার ইতিহাস দেখে নেওয়া যাক।।।

সি প্রোগ্রামিং ভাষা

সি নির্মাণ করেন ডেনিস রিচি, বেল ল্যাবে ৭০এর দশকে কাজ করার সময়। ভাষাটি তৈরির প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ইউনিক্স- অপারেটিং সিস্টেম এর কোড লেখায় এর ব্যবহার, কিন্তু অচিরেই এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষায় পরিণত হয়। সি++ ও জাভা সহ পরিবর্তীকালের অনেক প্রোগ্রামিং ভাষার উপর সি’র গভীর প্রভাব পড়েছে। সি এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর বহনযোগ্যতা। সি দিয়ে রচিত প্রোগ্রাম যেকোন অপাররেটিং সিস্টেমের কম্পিউটারে চালানো যায়। ৭০ এবং ৮০ দশকের দিকে সি এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এর অনেকগুলো ভার্সন তৈরি হয়। ১৯৮৩ সালে আমেরিকান মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা সি এর ১টি আদর্শ ভার্সন তৈরির জন্য কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ ৬ বছর পরে ১৯৮৯ সালে সেই আদর্শ সি ভাষাটি তৈরি হয়, যা আমেরিকান মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা সি (আনসি সি (ANSI C)) নামে পরিচিত। পরবর্তিতে আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৯৯০ সালে সি এর এই আদর্শ ভার্সনটি গ্রহণ করে, যা সি৯০ নামে পরিচিত। মুলত “সি৮৯” এবং “সি৯০” একই ভাষা। যুগের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৯৯৫ সালে এই সংস্করণকে বর্ধিত করে এবং পরবর্তিতে ১৯৯৯ সালে সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ প্রকাশ করে যা সি৯৯ নামে পরিচিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের নবীনতম সংস্করণ সি১১ প্রকাশিত হয়।

সি এর উৎপত্তি

images(1)

১৯৬০-এর দশকে বেশ কিছু কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করা হয়েছিল। মার্কিন কম্পিউটারবিদ গ্রেস হপার Mathematic, Flowmatic এবং A2 নামে তিনটি প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করেন। এরপর জেম্‌স ব্যাকাস তৈরি করেন ForTran। তারও পরে ALGOL, COBOL, Ada ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করা হয়। মূলত এই ভাষাগুলিই আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষাগুলির পূর্বসূরী। কিন্তু ঐ ভাষাগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হত। তাই কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষার কথা ভাবতে থাকেন যার মাধ্যমে সব ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হবে। এরই ফলশ্রুতিতে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন ALGOL 60 (Algorithmic Language) এবং এরপর Combined Programming Language (CPL), কিন্তু CPL শেখা এবং ব্যবহার করা ছিল বেশ কঠিন। তাই এটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর মার্টিন রিচার্ড CPL কে ভিত্তি করে ১৯৬৭ সালে তৈরি করেন Basic Combined Programming Language (BCPL) কিন্তু এটি ছিল মূলত Less Powerful to Specific এবং টাইপবিহীন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা।

এ সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের বেল গবেষণাগারে বিজ্ঞানী টমসন তৈরি করেন বি (B) নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষা; এটি ছিল পূর্বের BCPL-এর একটি উন্নত সংস্করণ। ডেনিস রিচি পরবর্তীতে B এবং BCPL অনুসরণ করেন এবং নিজে থেকে আরো কিছু কৌশল ব্যবহার করে তৈরি করেন “সি” (C)। মূলত B-এর সীমাবদ্ধতা গুলো দূর করার উদ্দেশ্যেই “সি” এর উৎপত্তি।

আজ এ পর্যন্ত। পরবর্তী পর্বে কিছু সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে ।শীঘ্রয় পরবর্তী পর্ব নিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *