দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন | Bhorer Kagoj


প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৩, ২০১৮ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০১৮, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

অতীতে বহুবার দেখা গেছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা অথবা অপরাধের ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার পরও চিকিৎসকদের লঘুদণ্ড প্রদান করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা নিঃসন্দেহে সমাজের সম্মানিত শ্রেণি। তারপরও কোনো চিকিৎসক অপরাধী হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাকে শাস্তির আওতায় আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। রিনার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনা হোক এমন নজির দেখতে চাই।

সন্তানসম্ভাবনা এক নারী একেবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে সেবা নিতে গেলে দায়িত্বরত সেবিকারা তাঁকে তাড়িয়ে দেন। বিতাড়িত হয়ে হতদরিদ্র ওই নারী বেশিদূর যেতে পারেননি। হাসপাতাল চত্বরেই এক গাছের তলায় পিঁপড়ার বাসার ওপরে তিনি জন্ম দেন এক সন্তানের। এ সময় চিৎকার করে ডাকার পরও কোনো সেবিকা বা হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সেবায় এগিয়ে আসেননি। ভোরের কাগজসহ গতকালের বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয় এই বেদনাদায়ক ঘটনার খবর। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার ভোরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এমন অমানবিক আচরণের শিকার ওই প্রসূতির নাম রিনা পারভীন (৩৫)। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার শত শত মানুষ হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভও করেছে। একই সঙ্গে তারা অমানবিক আচরণ করা বিশেষত সেবিকাদের শাস্তি দাবি করেছে। প্রায় সবক’টা জাতীয় দৈনিকে খবরটি গুরুত্ব পায়। প্রতিবেদনে সরকারি হাসপাতালটির অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। দরিদ্র বলে রিনা নামের এই মহিলাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

চিকিৎসা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। এ ঘটনায় প্রশ্ন এসেই যায়, আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গণমানুষের এ অধিকার পূরণে কতটা যত্নবান? দেশের চিকিৎসা খাতে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ দেয়া হয় জাতীয় বাজেটে। তারপরও দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে চিকিৎসা খাত কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে তা রিনার ঘটনায় বুঝা যায়। জানা যায়, প্রসব বেদনা শুরু হলে রিনা পারভীনকে রবিবার ভোরে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। দায়িত্বরত দুইজন নার্স প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা রিনাকে চেকআপ না করেই ‘এখানে হবে না’ বলে পার্শ্ববর্তী একটি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। স্বজনরা অন্তত একবার প্রসূতিকে দেখার অনুরোধ জানালে ওই দুই নার্স তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে প্রসূতি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। রিনার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা মনে করি, হাসপাতালের এই অবহেলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা অথবা অপরাধের ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার পরও চিকিৎসকদের লঘুদণ্ড প্রদান করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা নিঃসন্দেহে সমাজের সম্মানিত শ্রেণি। তারপরও কোনো চিকিৎসক অপরাধী হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাকে শাস্তির আওতায় আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। এতে কাক্সিক্ষত মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হবে। রিনার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনা হোক এমন নজির দেখতে চাই।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *