দেশজুড়ে ভোটের উত্তাপ – Bhorer Kagoj


প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১০, ২০১৮ , ১২:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৮, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের উত্তাপ চলছে। দেশে প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং পাড়া-মহল্লা সর্বত্র চলছে সম্ভাব্য ভোটের হিসাব। চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। কেমন হবে ভোটের পরিবেশ? বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো কি নির্বাচনে অংশ নেবে? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন কারা? প্রথম দিনে কোন কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেছেন? এমন হাজারো আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররা।
তৃণমূলেও চলছে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে মনোনয়ন প্রতিযোগিতা নিয়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। কে হচ্ছেন কোন আসনের প্রার্থী, কার জনসমর্থন কেমন? প্রার্থীদের মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিযোগিতা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ পক্ষে নিতে শুরু থেকেই দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এবার আওয়ামী লীগের তিনশ আসনেই গড় প্রার্থী সংখ্যা ১০ জন। সেই হিসাবে ৩০০ আসনে নৌকার প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার। বর্তমান সংসদ সদস্যসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনেরও কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। গত বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। গতকাল শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির তিনশ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়। প্রথম দিনেই দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছিল নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফরম নেয়ার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন বিক্রির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম নেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শেখ হাসিনার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম নেন তিনি।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্যও একটি ফরম নেন। ওবায়দুল কাদেরের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। এর আগে সকাল ১০টার আগে থেকেই কর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিভিন্ন জেলা শহর থেকে বাস ভর্তি করে সমর্থকদের নিয়েও আসেন অনেকে। একে একে মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন। কেউ কেউ পার্টি অফিসের অদূরে বাস-ট্রাক থামিয়ে বিশাল শোডাউন করে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন নিতে আসেন। মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-

সিরাজদিখান) আসনের জন্য বিশাল শোডাউন নিয়ে মনোনয়ন ফরম নিতে আসেন সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম সারোয়ার কবির। মিছিলে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের প্রত্যেকের মাথায় ছিল হলুদ ক্যাপ। গোলাম সারোয়ার কবির জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। আমি সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আজ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলাম। আমার বিশ্বাস সব জরিপ রিপোর্ট আমার পক্ষে।
শোডাউন নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসেন ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে। প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নৌকার মনোনয়নের জন্য ফরম নেন হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদ আলী রাতুল। কয়েক হাজার মানুষের বিশাল শোডাউন নিয়ে মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন তিনি।
এদিকে সকাল থেকে শুরু হয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সারাদিনেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে আসেন। তাদের সমর্থকরা ছবিসহ প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ফুল, কাগজ ও কাঠের ছোট ছোট নৌকাও ছিল। নারী সমর্থকদেরও মনোনয়ন ফরম নেয়ার মিছিল আসতে দেখা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটি এলাকায় বিরাজ করছে নির্বাচনী উত্তাপ। বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশেই তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে নিজ নিজ পছন্দের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষে জোরালো ভ‚মিকাও রেখে চলেছেন তারা। সবার চাওয়া, পছন্দের প্রার্থীই যেন নৌকার মনোনয়ন পান। চেষ্টা করছেন নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিতে। শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই নয়, ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোও। প্রকাশ্য না হলেও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো। আগামীকাল রবিবার নিজ দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)। চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে এ ফরম বিক্রি হবে।
ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ভোরের কাগজকে জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নীলফামারী জেলার প্রতিটি ইউনিটে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফ‚র্ততা দেখা দিচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন খোকা জানান, তফসিল ঘোষণার পরপর সেখানে আনন্দ মিছিল হয়েছে। কক্সবাজারের আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী।
নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে তিনশ আসনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের তালিকা। নির্বাচনে কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের সামগ্রী ক্রয় ও ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের মুদ্রণের কাজও সম্পন্ন করেছে ইসি।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *