নির্বাচনি প্রচারণায় অনলাইনে সর্বোচ্চ জোর দেবে বিএনপি


বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় নতুন ধরনের গতি আনতে চায় বিএনপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নাহলেও নির্বাচনি প্রস্তুতি চলছে তুমুলভাবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকা তৈরির পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচার কৌশলে নতুনত্ব আনতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে। দলের নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত এমন একাধিক দায়িত্বশীল নেতা এ তথ্য জানান।

নির্বাচনি প্রচারণা কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের আগে দলীয় দাবিগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নির্বাচনি ইশতেহারে স্থান পাওয়া সম্ভাব্য বিষয়গুলোকে সারাদেশের নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভক্তদের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায় বিএনপি। এতে করে সাধারণ মানুষের মনোভাবও ওঠে আসবে, এমন প্রত্যাশা করছেন উদ্যোক্তারা। ইশতেহার তৈরির আগে এসব বক্তব্যগুলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করার চিন্তাও আছে তাদের।
দায়িত্বশীলরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে অনলাইন প্রচারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও তরুণ নেতা তাবিথ আউয়ালের ভাষ্য— ‘নির্বাচনকালে ইন্টারন্টে নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছু মাথায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতি বিশেষ গ্রাফিক্সের মাধ্যমে পরিসংখ্যানসহ বিবরণী দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এনজিও কর্মী, তরুণ রাজনৈতিক কর্মী দেশ ও বিদেশে এ নিয়ে কাজ করছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি। এরপর এবছর বিভিন্ন ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেনস দলটির নেতারা।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যদি আমাদের দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তো সব কাজই শুরু হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ টেলিভিশন, অনলাইন পত্রিকা, দৈনিক পত্রিকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হবে। যেন যে মাধ্যমেই চোখ রাখবেন, তিনি যেন বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো দেখতে পান।’
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘দুর্নীতির বাইরে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, খুন, দলের কর্মসূচিতে বাধা, হামলা ও বিভিন্ন অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশঙ্খলা বাহিনীর হামলার ভিডিও প্রচার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্নভাবে এসব ভিডিও, তথ্যচিত্রের প্রচার নিশ্চিত করা হবে।’
নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল নির্ধারণে কাজ করছেন এমন একজন দায়িত্বশীল জানান, এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্তত কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি আইডিকে কাজে লাগানো হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, বিচার বহির্ভূত হামলার বিষয়গুলোকে তুলে আনা হবে। বিশেষ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে— এমন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে প্রচারণায়।
চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং-এর সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ, ইউটিউবসহ আধুনিক প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালানো হবে। এজন্য বিএনপির একটি গবেষণা টিম কাজ করছে।’
জানা গেছে, অনলাইনে প্রচারণার পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবে বিএনপি।

আরও পড়ুন: 

 

 

 

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *