পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্প: উন্নয়নের বড় উদাহরণ


পায়রা বিদ্যুৎপ্রকল্প এলাকাএখানে এলে চোখ জুড়িয়ে যায় আসলাম মৃধার। ২০১৬ সালে যখন ভিটে হারাতে হয়েছিল, বুকটা ব্যথায় ভরে উঠেছিল। সেই হারানোর যন্ত্রণা আজ প্রাপ্তির আনন্দে বিলীন হয়ে গেছে। কাঁচা ঘর, মেঠোপথ, রাত নামলে ঘুটঘুটে আঁধার। আর মাত্র দুই বছরে সব কিছু বদলে গেলো। এখন সেখানে পাকা পথ, সুন্দর ঘর, বিজলির আলো এসেছে। সব যেন স্বপ্নের মতো লাগে আজ।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে দাঁড়িয়ে আসলাম মৃধা তার অনুভূতির কথা জানালেন এভাবেই। শুধু আসলাম মৃধা কেন আলামিন গাজী, জাফর গাজী, বাদল রাহারি, আলামিন রাহারিসহ আরও অনেকে এখন অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। কবে আসবে সেই সময়, কবে উঠবেন নতুন বাড়িতে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কাজ তো শেষই, এখন চাবি বুঝিয়ে দেওয়ার পালা। বর্ষা মৌসুম, তাই দেরি হচ্ছে। একটি ভাল দিন দেখে শিগগিরই চাবি তুলে দেয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে। এরা ফিরে পাবেন বাড়ি, ফিরে আসবেন নিজের চেনা সেই গ্রামে-যেখানে নাড়িপোতা আছে এইসব সরল মানুষের।
আবাসন প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার সময় প্রথমেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তার পাশের পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে নামতেই খেলার মাঠ। মাঠের পাশে বড় দোতলা স্কুলঘর। এর পাশেই হাসপাতাল, মসজিদ, শান বাঁধানো পুকুরঘাট। পুকুরের পাশে রাস্তার দুই সারিতে চার চালা সেমিপাকা টিনশেড ঘর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৪৮ বিঘা জমির ওপর এই পুনর্বাসন পল্লির সব ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ। দুইটি ডিজাইনে করা হয়েছে এই সেমিপাকা ঘরগুলো। যেসব পরিবারের ২০ শতকের বেশি জমির বসতি নষ্ট হয়েছে তার জন্য সাড়ে সাত শতক জমিতে ১ হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের ৮২টি এবং যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে পাঁচ শতক জমিতে এক হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪৮টি ঘর করা হয়েছে। সব ঘরগুলো এল টাইপের। দক্ষিণমুখো। এই ঘরের প্রত্যেকটিতে ১৫ দশমিক সাত ফুট আয়তনে বাথরুমসহ একটি মাস্টার বেডরুম ছাড়াও আরও দুইটি ১৫ ফুট আয়তনের বেডরুম রয়েছে। ১০ দশমিক চার ফুট আয়তনের একটি ডাইনিংরুম। ১২ দশমিক দুই ফুটের রান্নাঘর। এছাড়া একটি কমন বাথরুম রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরের সামনে একটি খালি জায়গা, যেখানে শাক-সবজির আবাদ কিংবা গবাদিপশুসহ হাঁস-মুরগি পালনের সুযোগ থাকছে। পুনর্বাসন পল্লিতে ৩৬ হাজার ৯২৯ এবং ২৪ হাজার ৫৫৪ বর্গফুট আয়তনের ১টি পুকুর খনন করা হয়েছে। যার উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত শান বাঁধানো ঘাট রয়েছে। এই পল্লিতে নিরাপদ পানির জন্য ৪৮টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। আধুনিক দুইতলা মসজিদের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। ২৩ শতক জমিতে করা হয়েছে মসজিদটি। নির্মাণ করা হচ্ছে একটি হাসপাতাল। দুই তলা স্কুল ভবনের কাজ চলছে। ভেতরের পানি নিষ্কাশনের সাড়ে চার কিলোমিটার ড্রেনসহ পল্লির অভ্যন্তরে ১২ ফুট প্রস্থ দুই কিলোমিটারের চেয়েও বেশি দৈর্ঘের সড়ক করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানও করা হয়েছে।
পায়রা বিদ্যুৎপ্রকল্প এলাকাআর তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলাকার মধ্যে হওয়ার কারণে এখানে বিদ্যুৎ থাকবে সব সময়।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজার ১৩০টি পরিবার শিগগির উঠবেন এই গ্রামে। এ বিষয়ে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এম খোরশেদুল আলম বলেন, আমরা আশা করছি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কেউ এসে এই আবাসন প্রকল্পর চাবি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেবেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বোধ তৈরি হবে। তা হচ্ছে সরকার শুধু নেয় না, তারচেয়ে বহুগুণ ফিরিয়ে দেয়। এতে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন প্রকল্পর জন্য জমি দিতে উৎসাহিত হবেন।
নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, এখান থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে এর তিন পয়সা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এখানে কারিগরি স্কুলে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাদের কাজ দেওয়া হবে। ফলে শুধু বসবাস নয়, জীবন চালানো নিয়েও কোনও চিন্তা থাকবে না।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রকল্প পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলী শাহ আব্দুল মওলা বলেন, এখানে স্থাপন করা স্কুলটি আমরা নিজেরা পরিচালনা করবো। জোর দেওয়া হবে কারিগরি শিক্ষার প্রতি। একইসঙ্গে চাকরির সুযোগ রয়েছে এমন কিছু দেশের ভাষাও তাদের শেখানো হবে। তিনি জানান, আমাদের কেন্দ্রর জন্য যেসব শ্রমিক দরকার তাদের এখানেই তৈরি করা হবে। ফলে আবাসনের পাশাপাশি থাকবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *