বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন


তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর মামলাটির তদন্তে প্রতিবন্ধকতা নয় বরং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও হামলাকারীদের ধরতে সর্বাত্মক সহায়তা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী। গতকাল সোমবার সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপনকালে এ দাবি করেন। বেলা ১২টা ২০ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের এ মামলার অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। ঢাকার ১ নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন বেলা ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন গ্রহণ করেন।

আজ মঙ্গলবারও মামলাটিতে পূর্বনির্ধারিত যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। আইনজীবী নজরুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপনে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর আসামি লুৎফুজ্জামান বাবর আওয়ামী লীগের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে নিয়ে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি হামলাকারীদের ধরতে ১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। মুফতি হান্নান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেই টাকা পুরস্কার হিসেবে দেওয়াও হয়। পরবর্তী সময় এফবিআই-এর মাধ্যমে তদন্তের দাবি উঠেছিল। সে অনুযায়ী এফবিআইকে আমন্ত্রণও জানানো হয়। তার প্রচেষ্টায় ইন্টারপোলের একটি টিমও তদন্তের জন্য আসে। এ ছাড়া তদন্ত কার্য তদারকির জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ৬ সদস্যের একটি কমিটিও করেন। তিনি হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ করেন। এভাবে তিনি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ও হামলাকারীদের ধরতে সর্বাত্মক সহায়তা করেছিলেন। যা এ আসামি আত্মপক্ষ শুনানিতে বলেছেন।
এরপর আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপনে সাক্ষী মেজর জেনারেল (অব) সাদেক হাসান রুমি, লে. ক. মিজানুর রহমান, মে. (অব) আতিকুর রহমান ও সাব্বির আহমেদ মাসুদ নামে সাক্ষীদের দেওয়া বক্তব্য অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে ট্রাইব্যুনালে মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মামলাটিতে এ আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হবে। এর পরই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করবেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য রক্ষা পান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *