বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেশি গরু কিনছেন ব্যাপারীরা


পঞ্চগড়ে দেশি গরুর উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা দেশি গরু পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। দেশি গরু পালনে অতিরিক্ত খরচ বা হরমন জাতীয় কোনো ওষুধ কিনতে হয় না। রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও কম। মাঠের সবুজ ঘাস, খড়, কুড়া, খৈল আর ভুসিই দেশি গরুর প্রধান খাদ্য। জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত এইসব দেশি গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলায় এবার কোরবানির জন্য ১৫ হাজার গরু এবং ৫ হাজার ছাগল চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কোরবানির পশু প্রস্তত রয়েছে চাহিদার প্রায় দ্বিগুন। জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ৬ হাজার ২৯০টি গরুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে বড় গরুর খামারির সংখ্যা ৪০০ জন। এছাড়া ৫ হাজার ৮৯০ জন প্রান্তিক কৃষক একটি বা দুইটি করে গরু পালন করেছেন। এসব খামার মালিক এবং প্রান্তিক কৃষক কোরবানির জন্য ৪৬ হাজার ৩৪৬টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরু রয়েছে ২৬ হাজার ৮৪৬টি এবং ছাগল ১৩ হাজার ২১০টি। এসব পশু পালনে নানাভাবে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে এবার কোরবানির হাটে উপযুক্ত মূল্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

Panchagarh-Dedi-Cow

জেলা সদরের ডুডুমারি এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বছর খানেক আগে ৪৮ হাজার টাকায় দুটি গরু কিনেছিলাম। চাহিদামত কাঁচা ঘাস, খর আর ভুসি খাওয়ানো হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী গরু দুইটি মোটা তাজাও হয়েছে। কিন্তু এখন ঈদের বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে দাম যাই হোক স্থানীয়ভাবে এবং জেলার বাইরে কোরবানির জন্য দেশি জাতের গরুর চাহিদা ভালো। এজন্য প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে ঘুরে কৃষকদের বাড়ি থেকে দেশি গরু কিনে জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন বাইরে থেকে আসা বেপারীরা।

Panchagarh-Dedi-Cow

কুমিল্লা থেকে আসা গরুর বেপারী রহিমুল হক বলেন, এই জেলার প্রতিটি কৃষকের ঘরে গরু রয়েছে। এজন্য আমরা কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেশি জাতের গরু কিনছি। ছোটবড় মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি গরু পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে যাই। এসব গরু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. দেবাশীষ দাশ বলেন, এবার কোরবানি ঈদে জেলায় ১৫ হাজার গরু এবং ৫ হাজার ছাগলের চাহিদার বিপরীতে ২৬ হাজার ৮৪৬টি গরু এবং ১৩ হাজার ২১০টি ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। এসব গরু-ছাগলের অধিকাংশ স্থানীয় কৃষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে লালন পালন করেছেন। এসব পশু মোটাতাজাকরণে কোনো রকম কৃত্রিম পদ্ধতি বা হরমোন জাতীয় কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।

সফিকুল আলম/আরএআর/এমএস





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *