ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ- আসলে কি? নিশ্চিত মৃত্যুফাঁদ? নাকি আছে অন্যগল্প? আপনি কি ব্লু হোয়েলের থাবা থেকে নিরাপদ? ব্লু হোয়েলের আদ্যোপান্ত | Techtunes


কিছুদিন ধরে রাত্রে ঠিকমত ঘুম হচ্ছে না কারণ এই ব্লু হোয়েল-ব্লু হোয়েল আর ব্লু হোয়েল। এই ব্লু হোয়েলের * এখন আর দাঁড়াতে পারছি না। আর তাই এই ব্লু হোয়েল গেঞ্জাম/ক্রেজ/হাইপের মাঝে একটা ব্রেক লাগানোর চেষ্টায় আমি লিখছি আজকের এই টিউন।

ব্লু হোয়েল গেম আসলে কি? এটা কি নিশ্চিত মৃত্যুফাঁদ? মরণখেলা? আপনি কি ব্লু হোয়েল থেকে নিরাপদ? কিভাবে তৈরী হল এই ব্লু হোয়েল? বাংলাদেশে এলো কিভাবে? এরকমই কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব আজকের টিউনে। তো চলুন শুরু করা যাক।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক এই, Blue Whale জিনিসটা আসলে কি। অনেকেই হয়ত জানেন এটা একটা গেম। থামেন ভাই, ব্লু হোয়েল আদতে কোনভাবেই গেম নয়। এর কোন গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস নেই, না এতে আপনি কোন ক্যারেক্টার কন্ট্রোল করতে পারবেন আর না ই আপনি কোন মিশন কমপ্লিট করতে পারবেন। তাহলে কি এই ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি?

Blue Whale Challenge(ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ) হল একটা ইন্টারনেট ভিত্তিক চ্যালেঞ্জ যেটা আপনার জীবনকে হুমকির সম্মুখে ফেলতে সক্ষম।
সহজ ভাবে বলছি, ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ হল একটা মেসেজিং ওয়েবসাইট। যেখানে একজন ব্যবহারকারী শুধুমাত্র সাইটের এডমিনকে মেসেজ করতে পারবে। এডমিন ব্যবহারকারীকে প্রত্যেক দিন একটা করে ৫০ দিনে মোট ৫০টা চ্যালেঞ্জ বা টাস্ক দিবে সম্পন্ন করার জন্য। আর এডমিনরা ব্যবহারকারীকে এই টাস্ক সম্পন্ন করার জন্য বাধ্য করে থাকে। বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে বাধ্য করা হয় যেকোন ভাবে টাস্ক সম্পন্ন করতে। এবং কেউ একজন একবার এই চ্যালেঞ্জ শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত তার আর মুক্তি নেই। এবং বেশিরভাগ সূত্রমতে ৫০টি টাস্কের ৫০তম টাস্ক হল ছাদ থেকে লাফ দেয়া বা নিজেকে শেষ করে দেয়া।

ব্লু হোয়েল একটি ডার্ক ওয়েব গেম বা চ্যালেঞ্জ। এটি তৈরী করেছিল ২১ বছর বয়সী রাশিয়ান ফিলিপ বুদেকিন। যে কিনা একজন মনোবিজ্ঞানের ছাত্র এবং যাকে তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়। তার ভাষ্যমতে এই গেমটি সে তৈরী করেছে পৃথিবী থেকে জঞ্জাল দূর করার জন্য, সমাজ থেকে মূল্যহীন কীট দূর করার জন্য। ব্লু হোয়েল গেমটি ভাইরাল হয় ২০১৬ সালে রাশিয়ান সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম Vkonatakte তে।

সারাবিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায় কমপক্ষে ১৩০জন কিশোর-কিশোরী এই গেমের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। এবং বলা হচ্ছে গত ৫ই অক্টোবর রাজধানীর হলি ক্রস স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা এই ব্লু হোয়েল গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে(অন্তর তারপরিবারের এটাই দাবি)। তার মানে কি গেমটি বাংলাদেশে তার জাল বিস্তার করতে শুরু করেছে?

ব্লু হোয়েল সম্পর্কিত এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এবং জানতে ব্লু হোয়েল গেমের আদ্যোপান্ত দেখতে হবে ভিডিওটি;


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *