রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে দুর্গাপূজা…-692568 | কালের কণ্ঠ


কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত মিয়ানমারের হিন্দু রোহিঙ্গারাও উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসন কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা শিবিরেও যথারীতি শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য মন্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়া ৪৫০ জন হিন্দু বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশেই আনন্দ-উৎসবে যোগ দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক পূজা মন্ডপ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েও পূর্ণ নাগরিকত্বের মাধ্যমে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় কুতপালং হিন্দু রোহিঙ্গা শিবিরে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশি সনাতনী ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হিন্দু রোহিঙ্গারা একত্রে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত হিন্দু রোহিঙ্গাদের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এ বি এম মাসুদ হোসেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন শর্মা রনির সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সরকার মিয়ানমার থেকে ঠেলে দেয়া বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক অবদানের প্রেক্ষিতে হিন্দু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে সামিল হতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রশাসনের লোকজন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কিন্তু রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাহিরে যেতে পারবে না।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, দেবী দুর্গার আগমনে যে আনন্দ-উৎসাহ নিয়ে হিন্দু রোহিঙ্গারা পূজা পালন করছে তাতে পুলিশ প্রশাসন আনন্দিত। এটি একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামী ১ বছর পর্যন্ত হিন্দু রোহিঙ্গারা যাতে সুখী সুন্দর জীবন কাটাতে পারে কামনা করছি।

সভায় বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ডি এম মো. আশরাফুল আফসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ভূমি একরামুল ছিদ্দিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিৎ দাশ, রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিন্দ্র দাশ রবি, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বজল কান্তি ধর ও জয়ধন ঘোষ।

রোহিঙ্গা হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মধুরাম পাল। এর আগে জেলা প্রশাসক পূজা মন্ডপ উদ্ধোধন শেষে সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েও পূর্ণ নাগরিকত্বের মাধ্যমে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব পালনকালে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। পরে জেলা প্রশাসক ১০১ পরিবারে ৪৫০ জন হিন্দু রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক উখিয়া কেন্দ্রীয় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *