সেই লাবণী বিবাহিত, আছে মামলাও


আফরিন সুলতানা লাবণী‘এবার যদি কোনো প্রতিযোগী মিথ্যা তথ্য দেন কিংবা তথ্য গোপন করেন, পরে তা প্রমাণিত হলে সেই প্রতিযোগীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। গত বছর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে বিভ্রান্তি হয়েছিল।’—প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরই জানা গেল, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় ‘বেস্ট বিহেভিয়র’ যিনি হয়েছেন, সেই আফরিন সুলতানা লাবণী তাঁর বিয়ের তথ্য গোপন করেছেন। শুধু তা–ই নয়, এই প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে তাঁর সাবেক স্বামীর মামলাও আছে। সেই বিয়ের কাবিননামা ও মামলার কাগজপত্র প্রথম আলোর কাছে এসেছে।

এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের দাবি, প্রায় ৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবারের আসরে মুকুট জয় করে নেন তিনি।

তবে ঐশীর চেয়ে এবারের আসরে আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন লাবণী ও অনন্যা। তাঁদের মধ্যে লাবণীকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয় বিচারক ইমির প্রশ্নের হাস্যকর উত্তর দেওয়ার কারণে। লাবণীকে বিচারক ইমি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমাকে যদি তিনটি উইশ করতে বলা হয়, সে উইশগুলো কী হবে? এবং কাকে উইশ করতে চাও?

এমন প্রশ্নে লাবণী বলেছিলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সি-বিচ কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পাহাড়-পর্বতকে তিনি উইশ করতে চান। তাঁর এমন উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দেয়। এ নিয়ে ফেসবুকে ট্রলও হয়।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, একই বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবারের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া লাবণীকে নিয়ে।

সাবেক স্বামী আতিকের সঙ্গে লাবণী। ছবি: সংগৃহীত

কাবিননামা অনুযায়ী, লাবণীর সাবেক স্বামীর নাম আতাউর রহমান আতিক। জামালপুর সদরের বাগেরহাটা কলেজ রোডের বাসিন্দা তিনি। আতিকের ভাষ্য, ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে গিয়ে লাবণীকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৭ মে তাঁদের তালাক হয়। তালাকের পর লাবণীর নামে চুরির মামলা করেন তিনি। মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

লাবণীর বাবা আবদুল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোর কাছে মেয়ের বিয়ে ও তালাকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। ফের চেষ্টা করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

লাবণীর ভাষ্য, প্রতিযোগিতার দিন (৩০ সেপ্টেম্বর) তাঁর মা মারা যাওয়ায় তিনি বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর ঠিকমতো দিতে পারেননি।

লাবণীর সাবেক স্বামী আতিকের ভাষ্য, মায়ের মৃত্যু নিয়ে লাবণী মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

আতিকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয় লাবণীর বাবার কথায়। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী গত ৩০ সেপ্টেম্বর নয়, ২ অক্টোবর মারা যান।

লাবণীর সঙ্গে পরিচয় কবে হয়েছিল জানতে চাইলে আতিক বলেন, ‘২০১২ সালের শেষ দিকে আমাদের পরিচয়। লাবণী তখন ইডেন কলেজে পড়ত। আমি ঢাকায় থাকতাম। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। ওর পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করেছি। চকবাজারে ওর নামে আমার দুটি দোকান ছিল, এখন তা নেই। সে আমার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে ওর নামে চুরির মামলা করি। মামলা এখনো চলছে।’

এই মামলার বিষয়ে জামালপুর সদর থানায় যোগাযোগ করেন প্রথম আলোর জামালপুর প্রতিনিধি আবদুল আজিজ। ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও আতিকের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোহেল সিদ্দিক আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৬ সালের দিকে লাবণীর সাবেক স্বামী আতাউর রহমান আতিক টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩২। এরপর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার সূত্রাপুর থেকে লাবণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত থেকে সাবেক স্বামীর সঙ্গে আপসের শর্তে জামিন পান লাবণী।’

সাবেক স্বামী আতিকের সঙ্গে লাবণী। ছবি: সংগৃহীতএ বিষয়ে অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, লাবণীর বিয়ের খবর তাঁরাও জেনেছেন। এই ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘লাবণীর অবস্থান সেরা দশে। আমরা সেরা পাঁচ পর্যন্ত ভাবতে চাই। এর পরের প্রতিযোগীদের কে কী করল, তা নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না।’

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, বিবাহিত কিংবা সন্তানের মা হয়েছেন—এমন কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু গত বছর যাঁকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঘোষণা করা হয়, সেই জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ জেসিয়া ইসলামকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঘোষণা করা হয়। ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন জেসিয়া ইসলাম।

গতবারের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ার জেরে অন্তর শোবিজের স্বপন চৌধুরী এবার বলেছিলেন, তাঁর নিজস্ব লোকজন ও সংস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে স্বপন বলেন, ‘আমাদের তো ৩০ হাজার প্রতিযোগী, সবার তথ্য যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। টপ ফাইভ নিয়ে আমরা ভেবেছি, সেরা দশ নয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুদিন ধরে লাবণীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া মেলেনি।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *