১৩ বছরেও শেষ হয়নি খুলনায় সিরিজ বোমা হামলার ৫ মামলার বিচার


আদালত২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) দেশব্যাপী সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের সময় খুলনার ১০টি স্পটে বিস্ফোরণ ঘটে।ওই সব ঘটনায় খুলনার বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে একটির বিচার শেষ হলেও বাকি পাঁচটি মামলার বিচার কাজ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি। সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীরা আদালতে আসতে গাফিলতি করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আল আমিন বলেন, ‘সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আদালতে না আসার কারণে খুলনার সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তিনটি মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ৪৫ থেকে ৪৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষ্যও দ্রুত সম্পন্ন হবে। বিচার বিভাগ, এসি প্রসিকিউশন ও এপিপির সমন্বয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে যাচ্ছে।’ আগামী বছরের ১৭ আগষ্টের আগেই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

খুলনায় বোমা বিস্ফোরণের স্থানগুলো হচ্ছে খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের এজলাসের সামনে, এজি পেনশন অফিসের পেছনে, ডাকবাংলো জামে মসজিদের পাশে, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে, দৌলতপুরের বিএল কলেজের পূর্বপাশে ও সরকারি শিশুসদন এলাকায়, সোনাডাঙ্গা কেডিএ নিউমার্কেটের সিঁড়ি ঘর ও লতিফ ফিলিং স্টেশনের পাশে, বটিয়াঘাটা উপজেলার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসের পাশে। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমার স্প্রিন্টার ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার করে। এসব ঘটনায় খুলনায় ছয়টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে রয়েছে সদর থানায় দুটি, দৌলতপুর থানায় দুটি, খানজাহান আলী থানায় একটি ও বটিয়াঘাটা থানায় একটি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, খুলনা সদর থানার মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর। চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ১২ জুন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ওই বছর ২২ জুলাই। এ মামলায় সাক্ষী রয়েছেন ৪৭ জন। দৌলতপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২০ মে। সাক্ষী রয়েছেন ২৯ জন। সোনাডাঙ্গা থানার মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২৯ জুন। এ মামলায় ৩৯ জন সাক্ষী রয়েছেন। বটিয়াঘাটা থানার মামলায় ২০১০ সালের ৩১ মে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রইব্যুনালের বিচারক সেকেন্দার আলী রায় দেন। রায়ে জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, খুলনা সদর থানার মামলার আসামিরা হচ্ছে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাই, শহীদুল্লাহ ওরফে লোকমান, মাহবুবুর রহমান ওরফে লিটন ওরফে পলাশ, আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদুল ওরফে আরিফ ওরফে আসাদ, মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, খালিদ হাসান ওরফে মন্টু, হাফেজ মাহমুদ ওরফে হাসান ওরফে সুমন, সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কারাগারে থাকা ছয় আসামি হচ্ছে মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, হাফেজ মাহমুদ হাসান, শহিদুল্লাহ ওরফে লোকমান, মাহবুবুর রহমান লিটন, খালিদ হাসান মিন্টু ওরফে রুহুল কুদ্দুস, শায়খুল ইসলাম ওরফে সাইফুল ওরফে রাকিব ওরফে মিরাজ এবং জামিনে রয়েছে আশরাফুজ্জামান বাবু।

যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জাকির হোসেন জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট এ মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির জঙ্গিরা খুলনাসহ ৬২ জেলায় একযোগে একই সময়ে কমপক্ষে পাঁচশ জায়গায় বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় আইনজীবী, বিচারক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হতাহত হন।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *